রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

উখিয়ার সীমান্তে ‘গোলাগুলিতে’ দুই রোহিঙ্গা নিহত

ঘটনাস্থল হতে এক লাখ পিস ইয়াবা ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার-৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. ইয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো, কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১, ব্লক-বি/৩ এর বাসিন্দা ফোরকান আহমেদের ছেলে জোবায়ের (২৮) ও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১, ব্লক-সি এর বাসিন্দা মৃত আমির হামজার ছেলে দীল মোহাম্মদ (২৫)।

কক্সবাজার-৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পক্ষে সহকারী পরিচালক মো. ইয়ার হোসেন জানান, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর রেজুপাড়া বিওপি’র সদস্যগণের কাছে খবর আসে কতিপয় ইয়াবা ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এ সংবাদে রেজুপাড়া বিওপি’র দুইটি চৌকস আভিযানিক টহল দল সীমান্ত পিলার-৪০ হতে আনুমানিক ৩ কিমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমঘুমের ৮নং ওয়ার্ডের গর্জনবুনিয়া চাকমাপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থান নেয়। রাতের প্রথম প্রহরে ৫-৬ জনের একটি দল পাহাড়ি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় জানমাল রক্ষার্থে টহলদলও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাসি করলে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় এবং তাদের পাশে ইয়াবা সদৃশ বস্তু ও দেশীয় তৈরি ২টি একনলা বন্দুক পড়ে থাকতে দেখে। আহত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম ও ঠিকানা জানা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি ২ সদস্য আহত হন। তাদেরও উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। ঘটনাস্থল হতে এক লাখ পিস ইয়াবা, দেশীয় তৈরি একনলা দুটি বন্দুক, ৪ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ ও দুটি খালি খোসাজব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি টহলদল কর্তৃক ৪ লাখ ৬ হাজার ৩৮২ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ ৫৫ জন আসামি আটক করে। আর আজকে দুজন নিহত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাস এর মহামারির মধ্যেও বিজিবি তাদের নিজ কর্তব্যে অটুট থেকে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেন মেজর মো. ইয়ার হোসেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com